পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ১০ দেশে চলছে অনুসন্ধান: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীন।
তিনি বলেন, এসব দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি মিলেছে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এই মামলাগুলোর তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, আদালতের নির্দেশে এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি এবং বিদেশে ১৩ হাজার কোটির বেশি টাকার সম্পদ রয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট জমা পড়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আইনের পথেই এগোবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে আইন উপেক্ষা করে নানা অনিয়ম হয়েছে, তবে বর্তমান সরকার আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তার ভাষায়, ‘যারা জনগণের অর্থ পাচার করেছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ মূলত জনগণের সম্পদ। তাই তা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩ জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে এবং ৩৭ হাজারের বেশি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ কর্মসূচির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার নতুন টাকা ছাপিয়ে নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সহায়তা দিচ্ছে। ফলে এই অর্থ দেশের ভেতরেই ব্যয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে