বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে রথযাত্রা
প্রতিবছরের মতো এবারও ৯ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় রাজধানীর স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে বেলা তিনটায় মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের হবে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে রথ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছাবে। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি হবে।
সোমবার সকালে স্বামীবাগ মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এই রথযাত্রার আয়োজন করবে। ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী বলেন, ১৬ জুলাই সকাল ৮টায় বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিশেষ অগ্নিহোত্র যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুরে স্বামীবাগ আশ্রম থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, কার্জন হল, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় অতিক্রম করে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওড়িশার পুরীর রথযাত্রার পর ঢাকায় ইসকনের এই আয়োজন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অন্যতম বৃহৎ রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
ইসকন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জগন্নাথদেবের রথযাত্রার মূল বার্তা সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এই আয়োজন সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
মতামত দিন