৩ মাস ধরে ধর্ষণ: মাদ্রাসাছাত্র ফোনে বলে, ‘কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও’
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তথ্য গোপনের চেষ্টা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলায় শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষকেও আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশুর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে আল আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। পরে শিশুটির পেটব্যথা ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
অসুস্থতার কথা জানালে শিশুটির মা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে থাকা অবস্থায় শিশুটির নানা বাথরুমে রক্ত দেখতে পান। পরে তাকে স্থানীয় ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।
প্রায় ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় রেখে আসা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে ফের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ফোন করে মাকে সে বলে, ‘মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাও।’
শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে বিচার দাবি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়।
এদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের লাঠি হাতে স্থানীয়দের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অধ্যক্ষ দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক আল আমিন ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আর মাদ্রাসায় রাখা হবে না।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মতামত দিন