রংপুরে দ্রুতই চালু হচ্ছে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল
রংপুরে নির্মিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি জোরদার করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আসবাবপত্র স্থাপন এবং জনবল নিয়োগের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুয়েক মাসের মধ্যেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোর ভবন, প্রধান প্রবেশদ্বার এবং অক্সিজেন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। পরে তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে হাসপাতাল চালুর পথে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে আরিফ আহমদ জানান, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার উদ্দেশ্যে ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতালের আসবাবপত্র কেনার টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নমুনা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
অতিরিক্ত সচিবের ভাষ্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন। এর আগেই রংপুর শিশু হাসপাতালের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
পরিদর্শন শেষে আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমিতে ১০০ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর প্রায় ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই মাস আগেই ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটির কার্যক্রম এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি।
মতামত দিন