রংপুরে চার খুন: দুই আসামির ডোপ টেস্ট করবে পুলিশ
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। মাদকাসক্তির দাবি এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ যাচাই করতে এই পরীক্ষা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু সীমান্ত দাস রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, সীমান্তের দেওয়া তথ্য দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ সীমান্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে দুই আসামি পুলিশকে জানিয়েছে। সীমান্তও আদালতে একই তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশের জানায়, গত ২১ আগস্ট রাতে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট একই এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।
দুই আসামির মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, সোমবার সকালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে। মাদক পরীক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনও করা হয়েছে। তাদের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
এদিকে চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবনের পর যদি দুই তরুণ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে থাকেন, তাহলে তারা কেন চারজনকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটালেন—এ বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ঘটনার রাতে নিহত পরিবারের বাড়িতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনাটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ রহস্য হিসেবে সামনে এসেছে।
এর আগে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য তুলে ধরে জানিয়েছিলেন, আসামিরা ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেললে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং একপর্যায়ে চারজন নিহত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রংপুর জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও বিক্ষোভ করেছেন।
মতামত দিন