রংপুরে চার খুন: বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ। তিনি বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক চিত্র সামনে এনেছে।
পলাশ কান্তি নাগ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে নিহতদের স্বজনদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিকতারও কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাগরিক কমিটির এই নেতা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। ফলে শুধু পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর না করে পুরো ঘটনা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজনের হত্যার পাশাপাশি দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষ নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চায়। তাই শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় দ্রুত উদ্ঘাটন করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায় ও মেহেদী হাসান তরুণসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন