রংপুরে চার খুন: গ্রেফতার সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে বেশ কিছুদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছিল। পরে শনিবার বিকেলে তাঁদের ডিবি হেফাজতে আনা হয়। তবে এখনই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, ২৯ আগস্ট দুপুরের পর কয়েকজন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখার পর ডিবি পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে এবং পার্থ দাস ও বিনয় দাসকে হেফাজতে নেয়।
এ ব্যাপারে দৈনিক খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি সেলিম সরকার ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, "তথ্য সংগ্রহ করে চলে আসার সময় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ আমাদের আটকায় এবং মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়। প্রায় ১ ঘন্টা আটকে রেখে আমাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করে এবং সে ও তার বাবা মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। অবশেষে ডিবি এসে তাদেরকে হেফাজতে নেয়।"
এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আগামী স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই প্রীয়ম পড়াশোনা করত পঞ্চম শ্রেণিতে।
চারজনকে হত্যার ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে আসছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই রাতেই আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় এখন সিদ্ধার্থের পরিবারের দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত দিন