রংপুর হত্যাকাণ্ড: পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ
রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রীয়মকে খুনের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকেই চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় হঠাৎ বাড়িটির সব আলো নিভে যায় এবং পানির মোটর চালু করা হয়। এরপর ছাদ থেকে ঝরঝর করে পানি পড়তে থাকে।
অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতেই পুলিশ পানি ব্যবহার করেছে।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ চন্দ্র দাসের বড় ভাই পার্থ চন্দ্র দাস জানান, শুধু পানির ঘটনাই নয়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কয়েকটি ব্যাগে করে কিছু জিনিস নিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় কোনো কারণ থাকতে পারে। সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পুলিশ চেষ্টা করছে।
পার্থ চন্দ্র দাস দাবি করেন, আলামত ধ্বংসের জন্য আজ পানি ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে গভীর রাতে কয়েকটি ব্যাগে করে পুলিশ বাড়ি থেকে কিছু নিয়ে গেছে।
আলামত ধ্বংসের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, সিদ্ধার্থের পরিবারের পক্ষ থেকে আলামত ধ্বংসের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তাঁদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে কোনো লাভ হবে না। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সব ধরনের আলামত পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, 'পানির মোটর আমাদের পুলিশ সদস্যই চালু করেছিলেন। ট্যাংকি ভরে পাইপ দিয়ে পানি পড়েছে।'
তবে স্থানীয়রা জানান, ট্যাংকির পাইপ দিয়ে পানি পড়েনি। ছাদ থেকে ঝরঝর করে পানি পড়েছে। বৃষ্টি হলে যেমন ছাদ থেকে পানি পড়ে, ঠিক তেমনিভাবেই পানি পড়েছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ চন্দ্র দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই দুই যুবক চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য মানতে নারাজ নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, 'দুজন ছেলে চারজনকে কখনো হত্যা করতে পারে না। পুলিশের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যাবে না। এজাহার পুলিশ লিখেছে, আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি। সেখানে কী লিখেছে, তা আমি জানি না। হত্যার পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।'
এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে তাঁদের হত্যা করা হয়।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় দুই দোকানি জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গণপতিকে দাসপাড়া মোড়ে দেখা যায়।
আরেক দোকানি জানান, ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে তাঁর দোকান থেকে পান কিনে খান গণপতি। তখন তাঁকে খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছিল। ওই সময় গণপতির আচরণও অস্বাভাবিক ছিল বলে জানান ওই দোকানি।
মতামত দিন