রাঙ্গাবালীই দেশের একমাত্র উপজেলা, যেখানে নেই হাসপাতাল
চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর প্রায় দুই লাখ মানুষ। পুরো উপজেলাজুড়ে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে যেতে হয় জেলা সদর বা পাশের উপজেলায়।
নদী ও সাগরবেষ্টিত এই উপজেলা পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম স্পিডবোট, ছোট ট্রলার বা লঞ্চ। তাও আবার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। ঝড়-বৃষ্টির সময় প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায় নৌযান চলাচল, ফলে জরুরি রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের দাবি, দেশের মধ্যে রাঙ্গাবালীই একমাত্র উপজেলা যেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ কোনো হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। এর ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষ। অনেক সময় বাধ্য হয়ে হাতুড়ে চিকিৎসক, ঝাড়ফুঁক কিংবা পানি পড়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গুরুতর অসুস্থ হলে রোগীকে স্পিডবোটে করে পটুয়াখালী বা অন্য কোথাও নিতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, রাতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত কোথাও নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে না। একটি ভালো হাসপাতাল থাকলে এ কষ্ট পোহাতে হতো না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙ্গাবালীকে উপজেলা ঘোষণা করার প্রায় এক যুগ পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আধুনিক চিকিৎসা তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসাও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সমস্যা সমাধানে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে ২০২৪ সালের জুনে চতুর্থ অপারেশনাল প্ল্যানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রকল্পটি নতুন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি তোলা হয়েছে এবং খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা ঘোষণা করা হয়। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস, তবে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এখানকার মানুষ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে