মোংলায় পাশাপাশি কবরে ৯ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোংলা কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্বজন ও কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ মাঠে শোকের আবহ নেমে আসে।
মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন জানাজায় ইমামতি করেন। পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি ৯টি কবরে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া মাইক্রোবাস চালক নাঈমের জানাজা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে জুমার আগে অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আশরাফুল আলম জনি, যিনি এই দুর্ঘটনায় বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান ও বোনসহ পরিবারের বহু সদস্যকে হারিয়েছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও ভাগ্নেকে হারিয়েছি। কারও কাছে যদি তাদের কোনো দেনা-পাওনা থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা তা পরিশোধ করব। সবাই তাদের ক্ষমা করে দেবেন।'
জানাজা পূর্ব বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, যে বাড়িতে আজ আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী ও তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈমও দুর্ঘটনায় নিহত হন।
জানা গেছে, বর ছাব্বির মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান পরিচালনা করতেন। কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে