রামমূর্তি বিতর্কে আলোচিত হরিদাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শুনানি শেষে ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালত এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় হরিদাসের বিরুদ্ধে একটি চেক প্রতারণার মামলা হয়। মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি সিআইডি তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ আদালতে সোপর্দ করে।
প্রসঙ্গত, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস ২০১০ সালে ঢাকার উত্তরায় এসি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে 'তাওহিদ ইসলাম' নাম ধারণ করেন এবং ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিয়ে করেন।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের দোহাই দিয়ে সরকারি চাকরি দেওয়া, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন তিনি। এর আগেও ২০১৮ সালে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ।
এরপর চলতি বছরের জুন মাসে পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ফের আলোচনায় আসেন হরিদাস। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় মন্দির কমিটি পরবর্তীতে প্রকল্পটি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এরই মধ্যে গত ১২ জুলাই সিআইডির অনুসন্ধানে হরিদাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকারও বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপরই ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তার এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস ও লেনদেনের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মতামত দিন