Views Bangladesh Logo

এবার রাজশাহীতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিন টন

চৈত্রের শেষে বৃষ্টি পেয়ে নতুন রূপে সেজেছে প্রকৃতি। আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীর গাছে গাছে এখন সবুজ কলির সমারোহ। মাটির সোঁদা গন্ধ আর ফুলের সুবাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রাম-জনপদ। নতুন মৌসুমের শুরুতেই এই কলিকে ঘিরে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। রোদ-বৃষ্টি মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় আমগাছগুলো ভরে উঠছে ছোট ছোট গুটি আমে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে মুকুল আর গুটি মিলিয়ে যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সাজ। ধানের পরেই এই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সবচেয়ে ভরসার ফসল আম।

এবার রাজশাহী অঞ্চলে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় জানায়, এর অর্থনৈতিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ হাজার টাকা।

এদিকে আমের উৎপাদন ঘিরে বাগানগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে চাষিদের। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউবা রোগবালাই দমনে স্প্রে করছেন। চাষিদের মতে, ভালো মানের ফল পেতে তিন মাসে ৬ থেকে ৭ বার ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার কাশিতাড়া গ্রামের চাষি এনামুল হক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এবার ফলন ভালো হবে। প্রায় সব গাছেই কলি এসেছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক।

সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান টকি বলেন, রোদ ও বৃষ্টি আম চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে, ফলে রোগবালাই কম হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষা নামলে রোগবালাই কিছুটা বাড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, সাপাহার উপজেলায় ৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের চারটি জেলা—রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর—মিলে দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন অঞ্চল। এখানে আম্রপালি, খিরসাপাত, হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, কাটিমন, ফজলি, বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদিত হয়।

২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জার্মানি, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডায় প্রায় ৪০ কোটি ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬৩৫ টাকার আম রফতানি হয়েছে। গড়ে প্রতি কেজি আমের দাম ছিল ৯৩ টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে চার জেলায় মোট উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। পরের বছর ২০২৪–২০২৫-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টনে। আর ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন।

এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, প্রতি কেজি গড়ে ৯৩ টাকা ধরে মোট সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ হাজার টাকা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও চাষিদের যত্নের কারণে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আমের মৌসুম ঘিরে রাজশাহীতে আশাবাদের বাতাস বইছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ