Views Bangladesh Logo

রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, মুক্তির দাবি পরিবারের

রাজশাহীর নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় সংঘর্ষে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলীকে আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হানিফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। দ্রুত তাঁর মুক্তির দাবিও জানিয়েছে পরিবার।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকায় হানিফের পান দোকানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন। তারা জানান, ঘটনার পরদিন সকালে হানিফ তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। এরপরও তিনি স্বাভাবিকভাবে দোকান চালিয়ে গেছেন। পরিবারের দাবি, হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সুযোগ বা প্রমাণ তাঁর বিরুদ্ধে নেই।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ডিঙ্গাডোবার বাকীর মোড় এলাকায় টাকা ভাঙতি ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামের তালিকায় ১১ নম্বরে হানিফ আলী এবং ১২ নম্বরে তাঁর ছোট ভাই রবিউল ইসলামের নাম রয়েছে।

পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হানিফকে আটক করে নিয়ে যান। পরে তাঁর স্বজনেরা থানায় গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন। সংবাদ সম্মেলনে হানিফের বাবা জামালউদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে পান দোকান করে পরিবারের খরচ চালান। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে এবং ২০০০ সাল থেকে এ নিয়ে মামলা রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই হানিফ ও রবিউলকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।

হানিফের স্ত্রী দুলালী বলেন, তাঁর স্বামী খুবই সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ নেই। ঘটনার দিনও তিনি দোকানেই ছিলেন। সন্ধ্যায় সেখান থেকেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, হানিফ পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেননি। আশপাশের দোকানদারদের জিজ্ঞাসা করলেই তাঁর স্বামীর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

স্থানীয় দোকানি সোহেল রানা ও বাসিন্দা মেরাজও হানিফকে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার পরও হানিফ নিয়মিত দোকান করেছেন এবং তাঁর দোকান খোলা ছিল। এ অবস্থায় তাঁকে হত্যা মামলায় আসামি করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।

এদিকে হানিফ আলীর পাশাপাশি মামলার ৭ নম্বর আসামি মো. ইসরাইলকেও গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে চন্দ্র নামে আরও একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলাটিতে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুইজন এবং পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ