জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ঐতিহাসিক প্রত্নসম্পদ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষায় সচেতন নাগরিক ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর আমানা ফ্যান ভিলেজে আয়োজিত এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। সভাটি আয়োজন করে জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং সুপ্রিম হিউম্যান রাইটস কমিশনার ইউরি বজ্রমুনি (বিশ্ব রেকর্ডধারী সুপার হিউম্যান রাইটস সংগঠনের প্রতিনিধি)।
সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর নির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এছাড়া সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং ‘বজ্রপ্রাণ ধ্যান ও জানাবাদ দর্শন শিক্ষা কেন্দ্র’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কবি মুস্তাক রহমানও বক্তব্য দেন।
সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী।
সভায় রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে এ কমিটি অনুমোদন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রত্নসম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে প্রত্নস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ইউরি বজ্রমুনি বলেন, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ শুধু ইতিহাস রক্ষা নয়, বরং জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ বলেন, প্রত্নসম্পদ ধ্বংস রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
কবি মুস্তাক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নসম্পদের সুরক্ষায় নিরপেক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ সময়ের দাবি।
সভায় বক্তারা ২০০৭ সালে ফ্রান্সের গিমে মিউজিয়াম থেকে বাংলাদেশের পাচার হওয়া প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ও ফেরত আনার উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা ও আইনি উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তু পুনরুদ্ধার করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় রাজশাহী বিভাগের ছয় জেলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন আহ্বায়ক কমিটি বিভাগীয় পর্যায়ে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ, গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু করবে।

মতামত দিন