Views Bangladesh Logo

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ

টানা এক সপ্তাহের রেকর্ডভাঙা অবিরাম বর্ষণের পর চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে বৃষ্টির মাত্রা কমলেও এই অঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিগত কয়েকদিনের অতি ভারী বর্ষণের তুলনায় এই পরিমাণ বেশ কম।

বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। এর ফলে চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়ে গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং কিছু কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সরকারি হিসাব মতে, গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা দিনে গড়ে প্রায় ১৬৭ মিলিমিটার। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে এটি সর্বোচ্চ দীর্ঘস্থায়ী ও ভারী বর্ষণের রেকর্ড।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বহু নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে আবার জেলার কিছু অংশে নতুন করে পানি বাড়ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য তিন জেলার লাখ লাখ মানুষ এখন সম্পূর্ণ জলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগকবলিত এই অঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার ৫৭টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ১২ হাজারের বেশি বিপন্ন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ