ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার যানজট
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, রাতভর বৃষ্টি এবং যমুনা সেতুতে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদের ছুটিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদযাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতে যানজট শুরু হয় এবং বুধবার সকালে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। যমুনা সেতুতে কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো রেকার দিয়ে সরাতে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য টোল আদায় বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ, যা যানজটকে আরও দীর্ঘ করে তোলে।
সকাল ৮টার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে থাকলে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগরবাড়ী ও করটিয়া এলাকাজুড়ে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়ে যায়। সেতুতে যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে শ্লথ হয়ে পড়ায় এবং গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায়ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ভারী যানবাহন চাপ সামাল দিতে সেতুর উভয় প্রান্তের ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদাভাবে দুটি বুথও চালু রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সেতুতে দুর্ঘটনা এবং অবিরাম বৃষ্টি মিলিয়েই এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার আগে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পুলিশ মহাসড়কটিকে চারটি সেক্টরে ভাগ করে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ঈদের সময়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে হাজার হাজার যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে