বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী আজ
আজ ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শ্রাবণ মাস মানেই যেন অঝোর বৃষ্টি, ধূসর আকাশ আর এক ধরনের নিভৃত ব্যাকুলতা, যা এই বিশেষ দিনে প্রতি বছর আরও গভীর হয়ে ওঠে। দেশ-বিদেশের প্রতিটি বাঙালির কাছে ২২ শ্রাবণ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং এটি এক যৌথ আত্মোপলব্ধি ও শ্রদ্ধার দিন, যেখানে বাইরের মেঘলা আকাশ যেন হৃদয়ের গহীনের সুরেরই প্রতিফলন ঘটায়।
কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট আজ সন্ধ্যা ৭টায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে তাদের বিশেষ গীতিআলেখ্য 'শ্যামা' পরিবেশন করবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনটি রবীন্দ্রনাথকে দেওয়া অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র জন্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রথম অ-ইউরোপীয় লেখক হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন। এতে বাংলা সাহিত্য প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হয়। কিন্তু তাঁকে শুধু কবি বললে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, ছোটগল্পকার, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও চিত্রশিল্পী—সত্যিকারের একজন বহুমাত্রিক প্রতিভা।
সাহিত্য ও শিল্পচর্চার গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামোন্নয়ন ও শিক্ষার আধুনিকায়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি গড়ে তুলেছিলেন পরীক্ষামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শান্তিনিকেতন, যা পরবর্তীতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। পাশাপাশি নওগাঁর পতিসর, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ এবং শান্তিনিকেতনে কৃষি সমবায় ও গণশিক্ষা বিস্তারে তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। নিজের নোবেল পুরস্কারের অর্থেরও একটি অংশ তিনি এই গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজে দান করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের সারাজীবনের দর্শনে মূল ভিত্তি ছিল মানবতাবাদ, স্বাতন্ত্র্য ও লোকজ জ্ঞানের প্রতি অবিচল আস্থা। তাঁর রচিত গান ও দর্শন বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ও মননশীল জীবনের প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে। পাঠশালা থেকে শুরু করে বসতবাড়ি কিংবা কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়—তাঁর সুর ও বাণী আজও প্রতিদিনের সঙ্গী।
বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ কেবল পাঠ্যপুস্তকের কোনো ইতিহাস নন, তিনি নিত্যদিনের পথের দিশারী। শ্রাবণের বরিষণের সাথে সাথে বাঙালি জাতি আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে কবির চলে যাওয়াকে এবং উদযাপন করছে তাঁর সৃষ্টি, ভাবনা ও অমর স্মৃতিকে।
মতামত দিন