Views Bangladesh Logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এ দাবিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ স্মারকলিপিতে আরও বলেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। এ কারণে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এসব কারণে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আগের একটি কনসার্টকে কেন্দ্র করে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা এক মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগের ঘটনা বিবেচনায় না নিয়ে একই ধরনের আয়োজন করা হলে বিষয়টি ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’র মতো হয়ে যায়।

ফুজায়েল আহমেদ খান আরও বলেন, প্রায় আট-নয় বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। তখন নাচ-গানের অনুষ্ঠানের মধ্যে এক ছাত্রী ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়াকে কেন্দ্র করে কনসার্ট বন্ধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে কওমি শিক্ষার্থীদের দাবি করা কনসার্টকে ভিন্নভাবে দেখছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ওবায়দুল হক বলেন, কওমি শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে গেছেন—এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও আসেননি। বিষয়টি জানালে পরামর্শ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অধ্যক্ষ বলেন, এটি ঠিক কনসার্ট নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ—এই তিনটি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয়েছিল। গত ২৮ আগস্ট পুলিশ লাইন্সে হামলা চালিয়ে কনসার্ট বন্ধ করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ