Views Bangladesh Logo

পালপিট রক: যেখানে দাঁড়ালে মনে হবে পৃথিবী এখানেই শেষ!

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

কল্পনা করুন, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৯৮২ ফুট (৬০৪ মিটার) উঁচুতে একটি সমতল পাথরের ওপর। যার চারপাশে নেই কোনো রেলিং বা নিরাপত্তা বেষ্টনী। সামনে শুধু দিগন্তজোড়া পাহাড় আর পায়ের নিচে নীল জলাশয় বা ফিওর্ড। নরওয়ের প্রাইকেস্টোলেন বা পালপিট রক ঠিক এমনই এক শিহরণ জাগানিয়া জায়গা, যা সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এই পাহাড়ের মূল চূড়ায় পৌঁছানো এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এজন্য পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি পথ ও জলাভূমি। নরওয়েজিয়ান ভাষায় ‘প্রাইকেস্টোলেন’ শব্দের অর্থ হলো ‘ধর্মপ্রচারকের মিম্বর’ বা ‘প্লাটফর্ম’।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, পালপিট রক পাহাড়ের ওপর বা সেখানে যাতায়াতের পথে কোথাও কোনো নিরাপত্তা ব্যারিকেড নেই। নরওয়ে সরকারের মতে, কৃত্রিম বেষ্টনী প্রকৃতির এই আদিম সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেবে। ফলে পর্যটকরা সরাসরি পাহাড়ের একদম কিনারে বসে পা ঝুলিয়ে গভীর গিরিখাত দেখার সুযোগ পান। তবে দেশটির সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ভ্রমণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ পর্যটকের নিজের।

২০১৭ সালে হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ যখন তার ‘মিশন ইম্পসিবল: ফলআউট’ সিনেমার শুটিং করেন, তখন প্রাইকেস্টোলেন বা পালপিট রক পাহাড়টি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসে। ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যে টম ক্রুজকে এই খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে দেখা যায়। সেই সময় শুটিংয়ের স্বার্থে টানা এক সপ্তাহ এই দর্শনীয় স্থানে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

পাহাড়ের উপরিভাগে ১৯৩০ সালে একটি গভীর ফাটল দেখা যায়। তবে ফাটলটি দৃশ্যমান ও গভীর হলেও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাহাড়টি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই। পর্যটকদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এদিকে এই পাহাড় নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে একটি রোমাঞ্চকর লোককথা প্রচলিত আছে। বলা হয়, যেদিন নরওয়ের স্টাভাঞ্জার অঞ্চলের সাত ভাই সাত বোনকে বিয়ে করবে, সেদিন এই পাথরটি ধসে পড়বে এবং নিচের জলাশয় উপচে এক প্রলয়ঙ্কারী বন্যার সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে এই পাহাড়ের বাতাস এতটাই স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত যে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিচিত্র এক ব্যবসা। কিছু উদ্যোক্তা পাহাড়ের এই বাতাস বোতলে ভরে বিক্রি করছেন। প্রতি বোতল বাতাসের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫০০ টাকা (১১৫-১১৮ ডলার) পর্যন্ত হাঁকানো হয়। দাবি করা হয়, এটি পৃথিবীর বিশুদ্ধতম বাতাস যা সরাসরি মেঘের দেশ থেকে সংগৃহীত।

বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবী গোলাকার, তাই এর কোনো নির্দিষ্ট শেষ প্রান্ত নেই। কিন্তু পালপিট রকের কিনারে দাঁড়ালে আপনার মনে হতে বাধ্য—পৃথিবী বুঝি এখানেই শেষ হয়ে গেছে!

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ