কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পাটশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকালে নগরের দৌলতপুর এলাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান নেন তারা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকেরা সকাল থেকেই দৌলতপুর রেলিগেট মোড় এলাকায় জড়ো হন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধ চলাকালে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক বিজেএ ভবনের বাইরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে শ্রমিকনেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করে।
সমাবেশে শ্রমিকনেতারা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর শর্ত আরোপের পর থেকেই পাট খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জুট প্রেস হাউস কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারা বলেন, গত ৯ মাস ধরে বহু শ্রমিক বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শ্রমিকনেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে একই সময়ে বিজেএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত কাঁচা পাট রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। কিন্তু সরকারের নতুন শর্তের কারণে চলতি অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিজেএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮৬ দশমিক ৬৭ লাখ বেল কাঁচা পাট মজুত রয়েছে। বিপরীতে দেশের জুটমিল ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা প্রায় ৪৫ লাখ বেল। ফলে বিপুল পরিমাণ পাট উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যত বন্ধ থাকায় খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গের প্রায় ৪০টি জুট প্রেস হাউস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ব্যবসা বন্ধ থাকলেও গুদামভাড়া, ব্যাংকঋণের সুদ, বিমা ও শ্রমিক ব্যয়সহ নানা খাতে খরচ বহন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বিজেএ নেতারা অভিযোগ করেন, কাঁচা পাট রপ্তানি সীমিত থাকায় কিছু জুটমিল বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাচ্ছে। এতে পাটচাষি ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির জানান, কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানিপণ্যের তালিকা থেকে অব্যাহতি না দেওয়া হলে বুধবার থেকে খুলনার দৌলতপুরে বিজেএ কার্যালয়ের সামনে ধারাবাহিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে