সব্যসাচী স্টল বন্ধের প্রতিবাদে বইমেলায় বিক্ষোভ মিছিল
অমর একুশে বইমেলায় জয় বাংলা স্লোগান, তসলিমা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বইসহ তার বিভিন্ন বই বিক্রি ও আওয়ামী ফ্যাঁসিস্টের দোসর অভিযোগে দুর্বৃত্তদের রোষানলে পড়েছেন ‘সব্যসাচী’ প্রকাশনীর প্রকাশক শতাব্দী ভব। পরে শতাব্দী ভবকে পুলিশি হেফাজতে রেখে সব্যসাচীর স্টলটি বন্ধ এবং ওপরে জুতা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বইমেলায় বিক্ষোভ করেছেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া সাড়ে আটটায় বইমেলার টিএসসি গেট থেকে মিছিল নিয়ে বইমেলা প্রদক্ষিণ করে সব্যসাচী স্টলের সামনে জড়ো হন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘২৪ এর চেতনা, মব জাস্টিস মানি না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্কায়া ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের রূপে অন্য কাউকে দেখতে চাইনি। আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর বইমেলায় ভিন্নমতের কোনো বইকে রাখতে দেয়নি, কোনো স্টল বসতে দেয়নি। একইভাবে এই সরকার এসেও সব্যসাচীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলাটা করল। আমরা এটা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এভাবে যদি চলতে থাকে আওয়ামী লীগ সরকার যেমন টিকতে পারেনি, এই সরকারও পারবে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে যারা মব ক্রিয়েট করেছে, তাদেরকে শনাক্ত করে উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনতে হবে। আগামীকাল থেকে সব্যসাচী এবং শতাব্দী ভবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্টল খুলে দিতে হবে। যারা এটা করেছে, যারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই প্রশাসন তার দায় স্বীকার করবে এবং ক্ষমা চাইবে। এবং কোনো স্টলের সামনে গিয়ে এভাবে জুতা ঝুলিয়ে দেয়ার কোনো নৈতিক ভিত্তি দাঁড়ায় না। আমরা নতুন করে কোনো আওয়ামী ফ্যাঁসিস্ট সরকার চাই না। নতুন করে কোনো অস্থিরতা চাই না’।
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘বইমেলায় নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই সরকার বারবার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই হামলার জন্য একটি গোষ্ঠী আগে থেকেই অনলাইনে পাঁয়তারা চালিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা এমন দেশ চাইনি। আমরা চেয়েছি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চেয়েছিলাম জনগণের নিরাপত্তা। আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারকে ধিক্কার জানাই’।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ‘একদল উগ্রবাদী মব সৃষ্টি করে স্টলটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানাই। আমরা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। কিন্তু এই সরকার সেই গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিচ্ছে না। আমরা আশাবাদী ছিলাম, বাংলা একাডেমির নেতারা অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করবেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর মাজার ভাঙা হয়েছে, মন্দির ভাঙা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় চুপ ছিল। এই সরকার এর দায় এড়াতে পারবে না’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে