Views Bangladesh Logo

এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ, কুশপুতুল দাহ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। কর্মসূচি থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গাজী নজরুলের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিল। এ সময় গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা খড় ও কাপড় দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুতুল তৈরি করেন। পরে মিছিল নিয়ে বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ সড়ক ঘুরে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে যান তাঁরা। সেখানে কুশপুতুলটিতে আগুন দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নাটক সাজিয়ে ওই তরুণীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। নির্যাতনের মাত্রা সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ার পরই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি তাজা প্রাণ চলে গেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। এমন ব্যক্তিকে আমরা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই না। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যদি ফাঁসি হয়, তাহলে তাঁর ফাঁসি চাই।’

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শ্যামনগরের ভুরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তবে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি আমাদের কাছে স্বাভাবিক আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তাঁকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। তাই আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাই।’

বিক্ষোভে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের সময় তিনি জামায়াতের হয়ে কাজ করেছেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত লোক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সদর উপজেলার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, মরিয়মকে বিয়ের কথাটি গাজী নজরুল প্রতারণামূলক প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন। শুরুতে সেই অপরাধ চিহ্নিত করতে পারলে, আজকে মরিয়মের প্রাণহানি ঠেকানো যেতো।

একই এলাকার রাফিয়া ইসলাম বলেন, গাজী নজরুল সাতক্ষীরার মান-সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। সংসদের উচিত তাকে শুধু বরখাস্ত নয়, তার বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় গাজী নজরুল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিন বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।



মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ