Views Bangladesh Logo

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করা যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

হানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন থাকা খুলনার কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর বসবাস আমার থানা এলাকায়। তাই এ ঘটনায় থানায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযোগ আসে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে অভিযোগটি সাইবার নিরাপত্তা আইনে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন নাসির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এ মামলায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২৭, ২৮ ও ৩১ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি ৫ সেপ্টেম্বরই নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওই যুবক এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কলেজছাত্রটি মহানবী (সা.) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি করেন। ৩ সেপ্টেম্বর বিকালে এ ঘটনার পর থেকে কিছু মাদ্রাসার ছাত্র তাকে খুঁজতে থাকে। ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে খুঁজে পান। এরপর তাকে ধরে মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (সাউথ) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে তার মোবাইল যাচাই করা হয়।

তখন তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর একটি পোস্টে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে সেটি মুছে দিয়েছেন। কিন্তু কয়েকজন সেই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট রেখে দেন এবং তা ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিপদে ফেলেন। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। উত্তেজিত জনতা কটূক্তিকারীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ করেন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তরুণটি ক্ষমা চান এবং সে কান ধরে ওঠবস করেন। ওই ভবনের তিনতলার এ দৃশ্য নিচের লোকজন জানালা দিয়ে দেখেন। এতেও জনতার ক্ষোভ কমেনি। ফলে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা ওই ভবনের ভেতর ঢুকে পরে ওই যুবককে পিটিয়ে আহত করেন। এরপর সেনা সদস্যরা জনতার রোষানল থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময়ে স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর প্রচার ও জনতাকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। ৫ সেপ্টেম্বর সকালে প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয় ওই তরুণটি মারা যায়নি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ) মো. তাজুল ইসলাম জানান, পিটুনিতে আহত তরুণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোথায় কোন হাসপাতালে তা জানানো হচ্ছে না।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ