আলোকিত মানুষ গড়ার অগ্রদূত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের জন্মদিন আজ
দেশে বই পড়ার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের জন্মদিন আজ। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানকে ধারণ করে কয়েক দশক ধরে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের যে আন্দোলন তিনি গড়ে তুলেছেন, তা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
১৯৪০ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামে। বাবা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন খ্যাতিমান শিক্ষক এবং মা করিমুন্নেসা। বাবার আদর্শ ও শিক্ষাদর্শন থেকেই শিক্ষকতা পেশার প্রতি তার গভীর অনুরাগ তৈরি হয়।
১৯৬১ সালে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে ঢাকা কলেজে কাটানো সময়কে তার কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তেমনি একজন সংগঠক হিসেবেও রেখে গেছেন অনন্য অবদান। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠানের বই পড়া কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ আজও অব্যাহত রয়েছে। তার নেতৃত্বে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
ষাটের দশকের নতুন সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর সময় থেকেই তিনি একজন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। সাহিত্যচর্চাতেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটক, অনুবাদ, জীবনী এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ২৭টি। তার লেখালেখি ও চিন্তাচর্চা বাংলা সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
শুধু সাহিত্য ও শিক্ষা নয়, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ নানা জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে তার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার, বাংলাদেশ বুক ক্লাব পুরস্কারসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
আজ তার জন্মদিনে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বরেণ্য শিক্ষাবিদকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
মতামত দিন