শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হতে পারে আজ
গত বছরের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। সোমবার (১২ মে) প্রতিবেদন জমা দিতে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা।
মামলাটিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান রোববার (১১ মে) বলেন, ‘তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশন দল তাদের কাজের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা সোমবার শেখ হাসিনা এবং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আশা করছি। চিফ প্রসিকিউটর পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন’।
শুক্রবার (৯ মে) ফেসবুক পোস্টে এই অগ্রগতি ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও।
তাজুল ইসলাম লেখেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘জুলাইয়ের গণহত্যার’ তদন্ত প্রতিবেদনটি এই সোমবার জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করতে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়া হবে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে করা প্রথম মামলাটিতে জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ‘গণহত্যা, হত্যা এবং মানবতাবিরোধী’ অন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা।
পরে গণআন্দোলনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা তিনবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অতিরিক্ত দুই মাস সময় মঞ্জুর এবং নতুন সময়সীমা ২৪ জুন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাইয়ের গণআন্দোলন সম্পর্কিত পৃথক একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। মামলাটিতে ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলের ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সে সময়কার কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন মামলাটির আসামি।
গণআন্দোলন সম্পর্কিত মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলে রাষ্ট্রপক্ষকে চার সপ্তাহ বা ২৫ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। তবে এর আগেই অভিযোগ জমা হতে পারে।
তাজুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘চাঁনখারপুল হত্যার’ তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। ‘জুলাইয়ের গণহত্যার’ বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সাথে সাথে চলতি সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে