Views Bangladesh Logo

সেই কুকুরটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ, তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমির টেনে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া কুকুরটির মৃতদেহ তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, শনিবার সকালে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন। অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণে মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই দিন একটি অসুস্থ কুকুর কয়েকজনকে কামড় দিলে লোকজন সেটিকে তাড়াতে লাঠি নিক্ষেপ করে। পরে কুকুরটি দৌড়ে ঘাট এলাকায় গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। তখন একটি কুমির সেটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর কুকুরটি মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠে। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে মৃত কুকুরটির দেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, কুকুরটির মাথার নমুনা ঢাকায় সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এটি অসুস্থ ছিল কি না বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুকুরটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন আছে কি না, সেটিও তদন্তে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, মাজারের দিঘিতে কখনো কুমিরকে কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। তবে ভক্তরা অনেক সময় কুমিরকে খাওয়ানোর জন্য মুরগি ছুড়ে দেন—এ ধরনের কাজ বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হয়েছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে পানিতে ফেলেনি; এটি নিজে থেকেই দিঘির ঘাটে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ