প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বাতিল: শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রী পুতুলের
স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং করানো অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তার এমপিও বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের উন্নয়ন বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলার বরমহাটি সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল কার্যক্রম বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই সম্পন্ন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়ার দিকে ঠেলে না দিয়ে বিদ্যালয়ের উদ্যোগেই অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল পড়াশোনা ক্লাসরুমেই শেষ করতে হবে। কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে প্রয়োজনে স্কুলের উদ্যোগে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষ করা নয়, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শক্তিশালী করা গেলে শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে আলাদা করে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন কমবে।
এ সময় তিনি প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। কোনো শিক্ষক সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোয় যুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দও বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, পূর্ববর্তী সরকার দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সেই অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এবি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবেদ আলী মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু এবং বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
মতামত দিন