শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতার ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সাহসী বিপ্লবী এবং প্রথম নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে পরে সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন এই বিপ্লবী।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসে হেড কেরানি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা প্রতিভা দেবী ছিলেন গৃহিণী।
শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন প্রীতিলতা। চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। পরে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে পড়ার সময় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯২৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত আইএ পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম এবং ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন প্রীতিলতা।
এরপর কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হয়ে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রামের নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন প্রীতিলতা। নারী বিপ্লবীদের সংগঠিত ও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযান চালায় বিপ্লবীদের একটি দল। ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রীতিলতা। অভিযান শেষে ফেরার সময় ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে গ্রেপ্তার হওয়ার পরিবর্তে সঙ্গে থাকা সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন মাত্র ২১ বছর বয়সী এই বিপ্লবী।
প্রীতিলতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে যুক্ত হয় এক অনন্য অধ্যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর সাহস, নেতৃত্ব ও আত্মোৎসর্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছে। প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এই বীরকন্যাকে।
মতামত দিন