৭৯তম কান উৎসবে প্রিয়তীর সোনালি উপস্থিতি
ফ্রান্সের রোদেলা উপকূলীয় শহর কানে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর। ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা তারকাদের ভিড়ে এবারও আলাদাভাবে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ অভিনেত্রী ও মডেল মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। উৎসবের একেবারে প্রথম দিনেই তার সোনালি উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মহলে তোলপাড় ফেলে দেয়। আর এটি ছিল কানের লালগালিচায় তার ১১তম পদচারণা — যা নিজেই একটি বিশেষ মাইলফলক।
প্রিয়তীকে কেবল একটি পরিচয়ে আবদ্ধ করা সত্যিই কঠিন। তিনি একাধারে মডেল, অভিনেত্রী, পাইলট এবং তিন সন্তানের মা। এই বহুমাত্রিক পরিচয়ই তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন তিনি ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ খেতাব জিতে নেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে তার কাছে। মিস আর্থ আয়ারল্যান্ড, মিস ইউনিভার্সাল রয়্যালটি, ইউকে টপ মডেল, আইরিশ মডেল অব দ্য ইয়ার— এই শিরোপাগুলো তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রতিভার স্বীকৃতি। গ্ল্যামারের জগতে থেকেও পরিবার ও পেশাদারিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার যে দৃষ্টান্ত তিনি তৈরি করেছেন, তা অনেক তরুণীর অনুপ্রেরণার উৎস।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে প্রিয়তীর সম্পর্ক নতুন নয়, বরং বেশ পুরোনো ও গভীর। ৭৪তম কান উৎসবে ইন্টেগ্রিটি ম্যাগাজিন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে টপ মডেলের মর্যাদা অর্জন করেন তিনি। সেই থেকে কানের লালগালিচা যেন তাঁর পরিচিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি বছরই এই উৎসবে তাকে দেখা গেছে — কখনো নতুন লুকে, কখনো নতুন বার্তা নিয়ে। এবার সেই যাত্রা পৌঁছাল ১১তম অধ্যায়ে।
৭৯তম উৎসবের প্রথম দিনে প্রিয়তী যে লুকে হাজির হয়েছিলেন, তা রেড কার্পেটে উপস্থিত অন্যদের থেকে তাকে সহজেই আলাদা করে তুলেছিল। পোশাক হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি গোল্ডেন স্ট্র্যাপলেস বডিকন মিডি ড্রেস। পোশাকের ফিটিং ছিল নিখুঁত এবং এর সবচেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল ফ্লুটেড ট্রাম্পেট হেমলাইন। নিচের অংশের কুঁচকানো ঘের পুরো পোশাকে যোগ করেছিল একটা ভিন্টেজ মারমেইড আবহ। মিনিমাল ডিজাইনের মধ্যেও পোশাকটি ছিল গভীরভাবে গ্ল্যামারাস— যা রেড কার্পেটের জন্য একেবারে আদর্শ।
তবে এই লুকের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তার মাথার হেডপিসটি। আইরিশ ডিজাইনার ফিওনা রাফটারের হাতে তৈরি এই কাস্টম ফ্লোরাল হেডপিস পোশাকের সোনালি রঙের সঙ্গে অপূর্বভাবে মিলে গিয়েছিল। ফুলের নকশায় সাজানো এই হেডপিস প্রিয়তীর সামগ্রিক লুকে যোগ করেছিল একটা রাজকীয় মাত্রা। বব কাট চুলের সঙ্গে এই অনুষঙ্গের সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। একই ডিজাইনারের তৈরি ঝলমলে কাস্টম ক্লাচ ব্যাগও লুকটিকে করেছিল আরও সম্পূর্ণ।
মেকআপে প্রিয়তী বেছে নিয়েছিলেন সফট গ্ল্যাম স্টাইল। গোটা মেকআপ ও হেয়ার স্টাইলিং করেছেন মারিয়া। পুরো লুকে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তাঁর ক্লাসিক রেড লিপস। সোনালি পোশাকের পটভূমিতে এই গাঢ় লাল ঠোঁট যেন পুরো সাজটিকে দিয়েছিল চূড়ান্ত পরিপূর্ণতা।
এই বিশেষ লুকটি প্রিয়তী উৎসর্গ করেছেন ডিজাইনার ফিওনা রাফটারকে। নিজের ব্যস্ত পেশাদার জীবন ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের মাঝেও ফিওনা যে নিষ্ঠা ও মমতা নিয়ে প্রিয়তীর জন্য কাস্টম হেডপিস ও ক্লাচ তৈরি করেছেন এবং গোটা প্রস্তুতিপর্বে পাশে থেকেছেন— সেই আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই উৎসর্গ।
সব মিলিয়ে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম দিনেই গ্ল্যামার, আত্মবিশ্বাস আর স্বতন্ত্র স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এই চলচ্চিত্র উৎসবে বারবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাওয়া প্রিয়তী নিঃসন্দেহে দেশের জন্য এক বিশেষ গর্বের নাম।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে