Views Bangladesh Logo

নওগাঁয় দুই বছর পর কলেজে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার অধ্যক্ষ

নওগাঁর রানীনগরে গণ-অভ্যুত্থানের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর কলেজে যোগ দিতে গেলে রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে আসেন। কলেজে প্রবেশের সময় কিছু লোক তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। দুপুর ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক তাঁর কক্ষে ঢুকে তাঁকে গালাগাল করেন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু জার গাফফার বলেন, দুপুর ১টার দিকে জি এম মাসুদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর দুই পা ও এক হাতের হাড়ে চিড় রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁকে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দেন। পরে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। ওই বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁকে কলেজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, রোববার কলেজে যোগ দিতে গেলে বহিরাগত কিছু লোক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে কলেজ থেকে বের হয়ে যেতে বলে। তিনি বাধা উপেক্ষা করে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক কক্ষে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে কলেজ মাঠে ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলে জানান।

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কলেজের তহবিলের টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, অধ্যক্ষের ওপর হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর ও তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ