প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। ফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি নির্ধারিত ছিল।
তবে চূড়ান্তভাবে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তিতে ৪৬ হাজার ২৮১ জনসহ মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
ট্যালেন্টপুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। সাধারণ বৃত্তিতে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে।
এবার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৯৮২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫৯ জন শিক্ষার্থী।
দেশের পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছাড়া অন্যান্য জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলায় বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের আগে কয়েকটি জেলার ফল অনলাইনে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মতামত দিন