সেন্ট মার্টিন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল রাখবে নির্বাচিত সরকার। পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি খোলা রাখা হবে।
সরকারের মতে, বছরে তিন মাসের বেশি সময় পর্যটন চালু থাকলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি লিখিত জবাবে বলেন, সরেজমিন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে—বছরে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপটির পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বছরে ৯ মাস দ্বীপে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেখানে যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় পর্যটন চালু থাকলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হিসেবে সেন্ট মার্টিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। এর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছে, যা এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে