ড. ইউনূসের সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্ব’ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি: চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন দিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে চীন ও বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের নির্বাহী ভাইস-প্রধানমন্ত্রী ডিং জুয়েশিয়াং বৈঠকে ড. ইউনূসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। চীন আশা করে, বাংলাদেশ আপনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে’।
চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় শহর বোয়াওয়ে ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সফররত ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দুই নেতা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের নেতৃত্ব দেন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) চীনের রাজধানী বেইজিং গ্রেট হলে প্রেসিডেন্ট শি এবং ড. ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা রয়েছে।
নির্বাহী ভাইস-প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দেশ মংলা বন্দর এবং দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করবে।
দুই দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, মানুষে মানুষে আদান-প্রদান বাড়াতেও সম্মত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বৈঠকে এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস। বলেন, ঢাকা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগদানকারী প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে গর্বিত।
বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবিকা নির্বাহ প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশকে চীনা ঋণের সুদের হার তিন শতাংশ থেকে ১-২ শতাংশে কমানোর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফেরও দাবি জানিয়েছে।
তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন এবং সৌর প্যানেল শিল্পসহ চীনা উৎপাদন শিল্পগুলোকে স্থানান্তরিত করতেও বেইজিংয়ের সাহায্য চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার দুই বছর পরে বেইজিং ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যের চীনে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বাড়াবে।
তিনি বলেন, বেইজিং ঢাকার সাথে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা শুরু করতেও আগ্রহী।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে