‘স্পিকারের অপেক্ষায়’ রাষ্ট্রপতি, ফোনালাপের দাবি উড়িয়ে বললেন ‘কল্পনার বাইরে’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারছেন না। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘এটি কল্পনার বাইরে।’
বুধবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনালাপ হয়েছে এবং এর জেরেই তাকে পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় রাষ্ট্রপতি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কল্পনার বাইরে।’
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ একজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করায় এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান স্পিকার। তার ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও প্রয়োজন হলে এর আগেই ফিরতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. নূরুল আমীন বলেন, পদত্যাগপত্রে এখনো তিনি স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগ করলে জানানো হবে।
তবে বঙ্গভবনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, স্পিকার দেশে না থাকায় এখনই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। পদত্যাগটা যার কাছে করবেন, তিনি নিজেও দেশে নেই। তাই এখন পদত্যাগের সুযোগও নেই। তবে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—সেটি স্বাস্থ্যগত কারণেই হোক বা মানসিক কারণে।
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘মহামান্য তার কর্মকর্তাদের বলেছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে তিনি বঙ্গভবনের পাট চুকিয়ে ফেলতে পারেন।’
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেছেন, শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এমন কিছু হয়ে থাকলে সরকার তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
মতামত দিন