Views Bangladesh Logo

বিদ্যুৎ সংযোগ দিতেই পুড়ল রাজশাহীর ৩০০ বাড়ির টিভি-ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স পণ্য

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় একটি মেরামতকৃত ট্রান্সফরমার চালুর পরপরই অতিরিক্ত ভোল্টেজের (হাই ভোল্টেজ) কারণে তিনটি মহল্লার প্রায় ৩০০টি বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন দামি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুড়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত সোমবার গভীর রাত ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাতে বাখরাবাজ মসজিদের সামনের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। এতে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া এবং বাখরাবাজ স্কুলপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরও বিদ্যুৎ না আসায় বাসিন্দারা নেসকোর কাটাখালী কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে নেসকোর একটি দল মধ্যরাত ২টার দিকে একটি পোর্টেবল (ভ্রাম্যমাণ) ট্রান্সফরমার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেটি স্থাপন করে সংযোগ চালু করে। কিন্তু লাইন চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই মসজিদের একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বিকট শব্দে পুড়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে নেসকো কর্মীরা দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও ততক্ষণে অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে তিন মহল্লার প্রায় ৩০০ বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের এই গাফিলতির পর তিন মহল্লার মানুষ একযোগে রাস্তায় নেমে আসেন এবং নেসকোর স্টাফদের ঘিরে ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় কয়েকজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা কর্মীদের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে কাটাখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেসকো কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাটাখালী থানার ওসি সুমন কাদেরী বলেন, ‘এটা নেসকোর কর্মীদের ভুল। সম্ভবত তারা অতিরিক্ত ভোল্টেজ দিয়েছিলেন। সে জন্য অনেকের বাড়ির ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুড়ে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার লোকজন নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। পরে নেসকো আমাদের জানালে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এর বেশি কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ যাবে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটা কোনো গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।’

এদিকে এ ঘটনায় তিন মহল্লার শত শত পরিবার এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীন ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ