আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই দেশে অন্তত ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিভিন্ন দেশেই পড়ছে। সৌদি আরবের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতিতেও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারও দীর্ঘদিন বাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করে থাকতে পারে না। তবে সাধারণ মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার যথাসম্ভব সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ মানুষকেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে পরিমিতিবোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদের ব্যবহার ও অপচয় রোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষকদের প্রতি নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় প্রয়োজন। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। প্রয়োজন হলে সরকার শিক্ষার্থীর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে।
এ সময় নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার, বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে প্রথমে সাংগঠনিক এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
মতামত দিন