তিন হাসপাতালে ঘুরেও বাঁচলেন না প্রসূতি পপি, মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রসূতি পপি আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে পপির মরদেহ নিয়ে আল বারাকা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত পপি আক্তারের বয়স ২১ বছর। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে। একই ইউনিয়নের টাকই অহিদ সরকার বাড়ির মো. মোহন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা উঠলে পপিকে উপজেলা সদরের আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালটি এর আগে ভিশন হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পপির সন্তান প্রসব করানো হয়। ৭ সেপ্টেম্বর পপি ও তার নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পর থেকেই পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আবার আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেন। তখন কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে তাকে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি স্বজনদের।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে পপির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, সেখানে চিকিৎসকেরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আবার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
অস্ত্রোপচারের পর পপিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় তাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে পপি আক্তারের মৃত্যু হয়।
পরে ওই হাসপাতাল থেকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী আল বারাকা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে পপির মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পপির স্বজনদের অভিযোগ, আল বারাকা হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, আল বারাকা হাসপাতালে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন