ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে পাপ ধুয়েমুছে মরতে চান পপি
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি এখন জীবনের বাকি সময়টা অন্যভাবে কাটাতে চান। চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা ও আলোঝলমলে জীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে শান্তি, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে জীবন কাটানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেন পপি। জীবনের নতুন অধ্যায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন তার চাওয়া সুন্দরভাবে বাঁচা এবং সৃষ্টিকর্তার স্মরণে থাকা।
পপি বলেন, সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই। যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।
তবে অভিনয়জীবনে আর ফিরবেন না—এমন সিদ্ধান্তের কথা সরাসরি জানাননি পপি। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরলেও যেকোনো কাজ দিয়ে নয়, ভালো কোনো কাজ দিয়েই ফিরতে চান। তবে ২০২৬ সালেও তার চলচ্চিত্রে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত।
১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পপির। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মধ্যে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় শুটিং থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন পপি। নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। সুস্থ হওয়ার পর ২০২১ সালের শুরু থেকেই চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। এরপর থেকেই অনেকটা আড়ালে চলে যান তিনি।
পপির দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নানা গুঞ্জনও ছড়ায়। বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন—এমন খবরও সামনে আসে। পরে জানা যায়, তিনি এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার নিজের জীবন নিয়ে পপির এমন বক্তব্যে তার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনয়জীবনের ব্যস্ততা ও জনপ্রিয়তার বাইরে জীবনের পরবর্তী সময়ে শান্তি, আত্মশুদ্ধি এবং ধর্মীয় অনুশীলনকেই গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
মতামত দিন