জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার
একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে আয়োজিত ‘তিন ডিভিডেন্ড, এক জানালা: বাংলাদেশে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন নিয়ে সংসদীয় সংলাপ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন এসপিসিআইপিডি প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের কারিগরি সহায়তায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
স্পিকার বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়ন শুধু অর্থের বিষয় নয়; মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, নারী লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ পরস্পরের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজন সঠিক নীতি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।
স্পিকার আরও বলেন, শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নীতিগুলো বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষা, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনপ্রতিনিধিরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেন। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি ও মানবসম্পদ বিদেশে পাঠানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তিনটি পৃথক জানালার জন্য আলাদা নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। সংলাপে মূল প্রবন্ধে ‘বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ: সম্ভাবনা, সময় ও ঝুঁকি’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও এসপিসিআইপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন