Views Bangladesh Logo

মব নিয়ন্ত্রণ না করলে নির্বাচনে সহিংসতা হতে পারে: টিআইবি

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আসন্ন নির্বাচনে বিগত নির্বাচনের মতোই সহিংসতা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের পরবর্তী কয়েক দিনও অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির ধানমন্ডির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি মব সন্ত্রাস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনেও সহিংসতা হতে পারে। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে মব সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে সরকারের ভেতর থেকেই। সরকার গঠনের পরপরই সচিবালয়ে প্রথম মবের ঘটনা ঘটে। এরপর সরকারের বাইরের যেসব শক্তি মব সন্ত্রাসে জড়িয়েছে, তারা সেই ঘটনার পর থেকেই ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।’

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দৃঢ় ও স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন।

নির্বাচন ঘিরে হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটবে না। তবে ঝুঁকি যে নেই, তা নয়। সরকার এই ঝুঁকির বিষয়টি ভালোভাবেই জানে এবং তাদের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও সক্ষমতা রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দায়েরের বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পেশাগত অবস্থান অপব্যবহারের অভিযোগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা কতটা বিচার, আর কতটা প্রতিশোধ—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী ও কর্তৃত্ববাদের দোসরদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা কতটা সম্ভব হবে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

গণভোট ও সংস্কার ইস্যুতে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নোট অব ডিসেন্টের ধারণা অনুযায়ী আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাপী সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় যদি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে যায়, তাহলে সংস্কার বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সরকারের সদিচ্ছার ওপর।

সরকার প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ও গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের কঠোর সমালোচনা করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরের ও বাইরের শক্তি কাজ করেছে। বাইরের শক্তিকে সরকারই অতিরিক্ত ক্ষমতাবান করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আদৌ কি চায় গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে, পেশাদারত্বের সঙ্গে এবং নিরাপদ পরিবেশে কাজ করুক? এই দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচারক নিয়োগ কমিটি এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ সচিবালয়ের মতো কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তার দায়ভার পরবর্তী সরকারকেই নিতে হবে।

এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ