Views Bangladesh Logo

বল প্রয়োগ ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদার করছে বাংলাদেশ পুলিশ

পুলিশের আচরণে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়াতে বল প্রয়োগ, মানবাধিকার, পেশাগত নৈতিকতা ও সততা বিষয়ে ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ জোরদার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং পুলিশকে আরও সেবামুখী করে তোলাই এর লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগের নীতি সম্পর্কে সদস্যদের ধারণা বাড়াতে সরকারি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৩০টি ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯০০ পুলিশ সদস্যকে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। এ পর্যন্ত ৮১৮ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, দৈনন্দিন পুলিশিংয়ে বল প্রয়োগের নীতিমালা এবং কখন ও কীভাবে বল প্রয়োগ করা যাবে, তা বোঝানোই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি মানবাধিকার, পেশাগত নৈতিকতা ও সততা বিষয়ক আলাদা একটি কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৮০৪ জন সদস্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও জনবলের ঘাটতি ও প্রশিক্ষণ তহবিলের অপ্রতুলতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জনবল বাড়ানো ও বাড়তি বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করেছেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকলে প্রশিক্ষণ নিয়মিত রাখা এবং আরও বেশি সদস্যকে এর আওতায় আনা কঠিন হবে।

বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাঁচ দিনের আরও দুটি ব্যাচ চালু হওয়ার কথা, যার প্রতিটিতে অংশ নেবেন ১ হাজার ২৪০ জন। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ৩০টি ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সদস্যরা থাকবেন। এ ছাড়া নারী, শিশু ও প্রবীণদের সেবা দেওয়া সার্ভিস ডেস্কের সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণও চলছে। এতে অভিযোগ গ্রহণ, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহায়তার ধরন উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার আনুমানিক তথ্য উঠে আসে। এদের অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বাধীন তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ