মা ও নবজাতকের মরদেহ: ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা জানা গেল
গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, টাংগাইলের একটি গ্রামে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে 'সংঘবদ্ধ ধর্ষণের' পর হত্যা করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সে পোস্টে নারীর পেটের সন্তানটিকেও নির্যাতনকারীরা হত্যা করেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নারীটির মরদেহ যেখানে পড়ে আছে, তার কিছু দূরেই তার নবজাতক সন্তানের মরদেহ পড়ে আছে।
এই ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাটি খুঁড়ে সেই মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর সেতুর পাশ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বিকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। তখন তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মাটি খুঁড়ে নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুলিশ মাটি খুঁড়ে বস্তা থেকে সেই নারী ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। মৃতদেহের অবস্থা বিবেচনায় পুলিশ ধারণা করছে, ৮-১০ দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে পরিদর্শক রাসেল আহমেদ বলেন, 'মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করে আনার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তার মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুজনকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের যথাযথ মাধ্যমে জানা গেছে এ ঘটনার ভিক্টিমদের শনাক্তকরণে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে ও অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে, তবে বিস্তারিত ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবেনা যে ঠিক কিভাবে তাঁদের মৃত্যু ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এধরনের স্পর্শকাতর ঘটনার তথ্য প্রচার ও তা শেয়ার করার আগে প্রকৃত ঘটনা সঠিক ভাবে যাচাই করে নেয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ।
মতামত দিন