ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তুলল পুলিশ
সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশও জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। এরপর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পুলিশের সক্ষমতা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই অডিওতে পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগও করেন তিনি। অডিওটির কণ্ঠ রাকিবুল হাসানের বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছিল।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এরপর রাকিবুল হাসান কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানিয়েছিল। তবে পরদিন ডিবির পক্ষ থেকে তাকে সেখানে নেওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহারের পর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরদিন তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।
রাকিবুল হাসানের ছড়িয়ে পড়া অডিওতে পুলিশের বিভিন্ন পদে পদায়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ছিল। তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন। এসব বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
মতামত দিন