এমপি নজরুল ও স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে তিনি আসামিদের নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। এরপর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
মাসুম বিল্লাহর দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। এসব চিরকুটে স্বামীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন কথা লেখা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জামায়াতের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন।
পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল পরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়।
মতামত দিন