পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবীন কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, সততা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন তিনি।
রবিবার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্বের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার যেন আপনাদের গ্রাস করতে না পারে, সে বিষয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে সংবিধান, আইন ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। এসব অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।
এ জন্য কোনো ব্যক্তি যেন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণের পর বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া।
মতামত দিন