Views Bangladesh Logo

অপতথ্যে পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ‘ঘাপটি মেরে থাকা গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা’ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, এসব ব্যক্তি বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন। পরে যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনটি। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের ভঙ্গুর মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছিল, তখন ‘পলাতক, জনবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল’ পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও অভ্যন্তরে থাকা এসব ‘গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসর’ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে ‘মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দিচ্ছেন।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, এসব তথ্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও যথার্থতা যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা তা অতিরঞ্জিত করছেন। পরে নানা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, শুরুতে ব্যক্তিবিশেষকে ঘিরে এসব অপতথ্য ও প্রচারণা থাকলেও তা ধীরে ধীরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এমনকি পুলিশ বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধেও কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে।

এতে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এর ফলে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশ বাহিনীকে নয়, ক্ষতিগ্রস্ত করছে রাষ্ট্র, দেশের জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে।’

সংগঠনটি মনে করে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে ‘দুর্বল ও বিতর্কিত করার’ অপচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সংগঠনটি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কার্যক্রম যথাযথভাবে শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ