১৭ বছর ধরে পুলিশ থাকছে ক্লাসরুমে, শিক্ষার্থীরা ‘গোয়ালঘরে’
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১৭ বছর ধরে শ্রেণিকক্ষে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল বা গোয়ালঘরে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী তিনটি কক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। এসব কক্ষে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, বৈদ্যুতিক ফ্যান কিংবা শৌচাগারের ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। এরপর ১৭ বছর পার হলেও তা সরানো হয়নি। এদিকে ২০০৮ সালে নির্মিত স্কুল ভবনের দেয়াল ও সিঁড়িতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী জানান, বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু একই ভবনে পাঠদান, সালিস কার্যক্রম ও পুলিশের আনাগোনার কারণে সব সময় এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে, যা শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমাধান হয়নি।
অভিভাবক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, শিশুদের গরুর ঘরে বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। অন্য অভিভাবক কল্পনা রানী বিশ্বাসের ভাষ্য, স্কুলে সারাক্ষণ পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুরা ভয় পায়। দ্রুত ফাঁড়ি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, একই ভবনে শিশুদের পাঠদান ও পুলিশি কার্যক্রম একসঙ্গে চলা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান জানান, ফাঁড়িটির জন্য ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। নতুন ভবন নির্মাণ শেষে ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হবে। এর আগে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে