Views Bangladesh Logo

সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট

পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের দায়িত্বে থাকবেন। তার অধীনে ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার এ ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন। থানা পর্যায়েও উপপরিদর্শক, সহকারী উপপরিদর্শক ও কনস্টেবল পর্যায়ের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশের সব সাইবার ক্রাইম বিভাগকে এই ইউনিটের আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরুতে বিদ্যমান জনবল থেকেই যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় সদস্য নিয়ে ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গড়ে তোলা হবে। ইউনিটে আধুনিক সাইবার-সম্পর্কিত সরঞ্জাম থাকবে। প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর এই সংগঠনে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড বাড়ায় পুলিশের পুরোনো চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় এখন ডিজিটাল প্রমাণ ও ফরেনসিক প্রযুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হচ্ছে।

সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এত দিন বিভিন্নভাবে অসংগঠিতভাবে কাজ করায় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় এ ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে সাইবার প্যাট্রলিং ও সাইবার অপরাধ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন জনবল প্রয়োজন হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য সিস্টেম অ্যানালিস্ট, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, জরুরি সাড়া প্রদান বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক প্রশাসক, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ, বিষয়বস্তু উন্নয়নকারী, ক্রিপ্টো বিশ্লেষক, ম্যালওয়্যার বিশ্লেষক, ডার্ক ওয়েব বিশ্লেষক, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং তাদের জন্য আলাদা বেতনকাঠামো রাখা হবে। নিয়মিত পুলিশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে দক্ষ জনবল নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশের মধ্যে ইতিমধ্যে সাইবার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদেরও প্রাথমিকভাবে এ ইউনিটে যুক্ত করা হবে।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হবে। তারা ইউনিটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি এসব কর্মকর্তাকে দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞদের জন্য পৃথক কাঠামো থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন আরও আধুনিক করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজন, সংবাদকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সংশোধিত বা নতুন আইনে সাইবার-সম্পর্কিত অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয় থাকবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মীরা যেন আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ