ওসিকে হুমকির পর পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
চট্টগ্রামের খুলশীতে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ সময় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমসহ অন্তত আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে নগরের ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, অস্ত্র মামলায় আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার সময় তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেন। পরে তারা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ককটেল ছোড়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
খুলশী থানা সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে খুলশী থানায় মামলা হয়। মামলায় ওয়াকিলকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। তার ছয় সহযোগীকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের মুঠোফোনে কল করেন ওয়াকিল। কেন তার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি। পুলিশ জানায়, এ সময় ওয়াকিল ওসিকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান ওসি। পরে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার অভিযানের খবর পেয়ে রাতে ওয়াকিল তার অনুসারীদের জড়ো করেন। ভোরে পুলিশ ওয়্যারলেস এলাকায় পৌঁছালে তারা বিএনপির নামে স্লোগান দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন। পরে পুলিশ সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে ওসিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ওয়্যারলেস এলাকার বিভিন্ন গলি ও ওয়াকিলের বাসভবনে সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানের আগেই তিনি পালিয়ে যান। তাকে ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, কলেজশিক্ষককে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নেওয়ায় ওয়াকিল তাকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় আদালতের পরোয়ানাও ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ওসি বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ওয়াকিলের বক্তব্য জানতে তার দুটি মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশের ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ ওয়াকিল হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও খুলশী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অস্ত্রবাজিতে তারা অতিষ্ঠ। সরকারি জায়গা দখল নিয়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মতামত দিন