ভৈরবে ফুটবল ম্যাচ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫
ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত দুটি রেলপথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চবটী গ্রামের কিছু লোক প্ল্যাটফর্মের ওপর জগন্নাথপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়াম নামের এক যুবকের ওপর হামলা চালায় ও তাকে মারধর করে।
পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্টেশন এলাকায় জড়ো হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো স্টেশন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, ‘পুরো স্টেশন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ব্যাপক ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার কারণে ট্রেন চালানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।’
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা–সিলেট এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের অন্তত ৬টি আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন বিভিন্ন আশেপাশের স্টেশনে আটকা পড়ে। পাঁচ ঘণ্টা ধরে মাঝপথে আটকা পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে ছিল— মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলী, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। এতে মাঝরাতে হাজারো যাত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তির শিকার হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, র্যাব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যৌথ বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং 'মহানগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদ আহমেদ জানান, ফুটবল ম্যাচের পূর্ববিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে